ইসিএমও

ইসিএমও / ECMO হল একটি অত্যাধুনিক মেশিন যা হৃদপিণ্ড এবং ফুসফুসের কার্যকারিতাকে অনুকরণ করে। এটি মূলত ভারতবর্ষের ম্যাক্স হাসপাতালে ওপেন-হার্ট সার্জারির সময় ব্যবহৃত হয়, চিকিৎসা করার সময় আমাদের চিকিৎসকরা মেশিনের দিকে অঙ্গগুলির কার্যকলাপ বাইপাস করেন। ইসিএমও মেশিন রক্ত ​​পাম্প করতে এবং শরীরের বাইরে অক্সিজিনেটিং করতে সহায়তা করে, ফলে ফুসফুস এবং হৃৎপিণ্ড বিশ্রাম পায়। ভারতবর্ষের ম্যাক্স হাসপাতালে ইসিএমও পদ্ধতির সাফল্যের হার অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য এবং ভারতবর্ষের এই চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানটি শত শত রোগীর জীবন বাঁচিয়েছে। রোগীদের জন্য উৎকৃষ্ট এবং অত্যাধুনিক মানের চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য এই হাসপাতালে অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের সেরা প্যানেল এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে। এখানে দুটি ইসিএমও / ECMO রয়েছে, যথা -

  1. ভিএ ইসিএমও / VA ECMO: যা একটি শিরা এবং ধমনী উভয়ের সাথেই সংযুক্ত। ফুসফুস এবং হার্ট উভয় ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিলে এটি ব্যবহার করা হয়।
  2. ভিভি ইসিএমও / VV ECMO: এটি হৃৎপিণ্ডের কাছে এক বা একাধিক শিরাগুলির সাথে সংযুক্ত। এটি কেবলমাত্র ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হলে তখন এটি ব্যবহৃত হয়।
ইসিএমও / ECMO ফুসফুসের সমস্যা, হার্ট ফেইলিওর বা হার্ট সার্জারি থেকে সেরে ওঠা রোগীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। চিকিৎসকরা যখন অন্যান্য অঙ্গগুলির অবস্থা মূল্যায়ন করতে চান এবং যখন রোগীরা লাং ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য অপেক্ষা করেন তখন এটি একটি ব্রিজ হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

যেসব শারীরিক সমস্যার জন্য ইসিএমও / ECMO ব্যবহার করা উচিত:

  1. নিউমোনিয়া - ফুসফুসে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ
  2. সেপসিস - রক্তে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ
  3. ডায়াফ্রামের জন্মগত হার্নিয়া
  4. বাচ্চাদের মধ্যে জন্মগত হার্টের অবস্থা
  5. শেষ পর্যায়ে কার্ডিয়াক বা শ্বাসযন্ত্রের ব্যর্থতা
  6. ম্যাকোনিয়াম অ্যাসপিরেশন সিনড্রোম

লক্ষণ -

রোগীদের মধ্যে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলির জন্য ইসিএমও থেরাপির প্রয়োজন হয়:
  1. শ্বাস নিতে সমস্যা
  2. ঘুমের সময় শ্বাস নিতে অক্ষমতা - ঘুমের সমস্যা
  3. পা এবং পেটে ফোলাভাব
  4. দীর্ঘস্থায়ী কাশি এবং শ্বাস নেওয়ার সময় শোঁ শোঁ শব্দ করা
  5. বিভ্রান্তি এবং পরিবর্তিত মানসিক অবস্থা
  6. হার্ট রেট দ্রুত হওয়া
  7. ক্ষুধামান্দ্য

মেডিকেল টেস্ট এবং ডায়াগনোসিস -

শারীরিক সমস্যাগুলি হৃৎপিণ্ড বা ফুসফুসের সাথে আছে কিনা তা নির্ধারণ করার জন্য চিকিত্সকরা ইসিএমও পদ্ধতি পরিচালনা করার আগে একাধিক ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা করেন।
  1. ইকোকার্ডিওগ্রাম: হৃৎপিণ্ডের কার্যকারিতা বোঝার জন্য শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করা হয়।
  2. ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম:এটি হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক ক্রিয়াকলাপ পর্যবেক্ষণ করার জন্য একটি পরীক্ষা
  3. ইউএসজি হেড: মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বন্ধ করার জন্য এটি অল্পবয়স্ক শিশুদের উপর পরিচালনা করা হয়। মস্তিষ্কে তীব্র রক্তক্ষরণের ক্ষেত্রে ইসিএমও ব্যবহার করা হয় না।

চিকিৎসা পদ্ধতি পরিচালনা করার আগে প্রস্তুতি -

রোগীকে ইসিএমও ডিভাইসে সংযুক্ত করা একটি সার্জারির প্রক্রিয়া এবং এটি আইসিইউতে পরিচালনা করা হয়। রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়াকে কমানোর জন্য রোগীকে অ্যান্টি-কোয়াগুল্যান্ট ওষুধ প্রদান করা হয় এবং রোগীকে অবশ করে দেওয়া হয়। রক্তনালীতে ইসিএমও ক্যাথেটারগুলি প্রবেশ করানোর পরে, টিউবগুলি সঠিক জায়গায় রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য এক্স-রে নেওয়া হয়। ফুসফুসের সমস্যা নিরাময়ের জন্য রোগীকে একটি ভেন্টিলেটারের সাথেও যুক্ত করানো থাকে। চিকিৎসক এবং নার্সদের পাশাপাশি সার্জিক্যাল দলের আধিকারিকরা রোগীকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পরিপূরক পুষ্টির জন্য এবং এই অবস্থায় রোগীকে সঠিকভাবে সহায়তা করার জন্য নাসোগ্যাসট্রিক টিউবও প্রবেশ করানো হয়।

চিকিৎসার পরে যে সাবধানতাগুলি অবলম্বন করা উচিত -

ইসিএমও টিউবগুলি সরিয়ে নেওয়া এবং মেশিন থেকে রোগীকে আলাদা করাটাও এক ধরনের শল্যচিকিৎসা। প্রক্রিয়া বন্ধ করার আগে একাধিক পরীক্ষা করা হয়। এটি নিশ্চিত করার জন্য যে হৃৎপিণ্ড এবং ফুসফুসগুলি নিজের থেকেই কাজ করতে সক্ষম। ইসিএমও টিউবগুলি সরিয়ে নেওয়ার পরে রক্তনালীগুলিকে ঠিক করা হয়।

আপনার অবস্থা বা রোগের জন্য অনুসন্ধান করুন

এপিলেপসি বা মৃগীরোগ সংক্রান্ত কিছু জানার বিষয়