হুইপল সার্জারি

প্যানক্রিয়াটিকোডুওডেনেক্ট‌মি হিসাবে পরিচিত, হুইপল সার্জারি হল অগ্ন্যাশয়ের মাথা (যা ক্ষুদ্র অন্ত্র, পিত্তথলি এবং পিত্ত নালীর প্রথম অংশ) অপসারণ করার জন্য এক ধরনের জটিল শল্য চিকিৎসা পদ্ধতি যা ভারতবর্ষের ম্যাক্স হাসপাতালে সম্পন্ন করা হয়। এই পদ্ধতিটি টিউমারের সাথে সাথে অন্যান্য অগ্ন্যাশয়জনিত ব্যাধি, অন্ত্র এবং পিত্ত নালীগুলির চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত কার্যকর। অগ্ন্যাশয় ক্যান্সারকে সফলভাবে চিকিৎসার জন্য হুইপল সার্জারি হল সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত একটি অপারেশন, যা অগ্ন্যাশয়ের মাথার অংশ পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। হুইপল পদ্ধতির পরে, সার্জনরা সাধারণত অপারেশনের পরে রোগী যাতে সহজে খাদ্য হজম করতে পারে তার জন্য বাকী অঙ্গগুলিকে যোগ করে দেন।

লক্ষণ -

চিকিৎসকরা নিম্নলিখিত রোগগুলির চিকিৎসা করার জন্য সাধারণত হুইপল সার্জারির পরামর্শ দেন:
  1. অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার
  2. অগ্ন্যাশয় টিউমার
  3. অগ্ন্যাশয় সিস্ট
  4. পিত্তনালীতে ক্যান্সার
  5. প্যানক্রিয়াটাইটিস
  6. নিউরোএন্ডোক্রিন টিউমার
  7. অ্যাম্পুলারি ক্যান্সার
  8. অন্ত্রে ছোট ক্যান্সার
  9. অগ্ন্যাশয় বা ছোট অন্ত্রের কোনও ট্রমা
  10. অগ্ন্যাশয়, ছোট অন্ত্র বা পিত্ত নালী জড়িত অন্যান্য টিউমার বা ব্যাধি
হুইপল সার্জারি করার উদ্দেশ্য হল অগ্ন্যাশয় থেকে টিউমার অপসারণ করার পাশাপাশি এটি যাতে শরীরের অন্যান্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়তে না পারে তার জন্য বাধা প্রদান করা। বেশিরভাগ টিউমারকে নিরাময় করার জন্য এবং এই অবস্থায় দীর্ঘস্থায়ীভাবে বেঁচে থাকার জন্য এটি একমাত্র উন্নতমানের চিকিৎসা পদ্ধতি।

মেডিকেল টেস্ট বা ডায়াগনোসিস

অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার সনাক্ত করার জন্য চিকিৎসকরা যে কয়েকটি শারীরিক পরীক্ষার সুপারিশ করেন সেগুলির মধ্যে কয়েকটি হল আল্ট্রাসাউন্ড, সিটি (কম্পিউটারাইজড টমোগ্রাফি) স্ক্যান, এমআরআই (চৌম্বকীয় অনুরণন চিত্র), এবং অনেক সময় পিইটি বা পজিট্রন এমিশন টমোগ্রাফি স্ক্যান।

সার্জারির আগে কিছু সতর্কতা এবং সার্জারির পরে আরোগ্যলাভ

অস্ত্রোপচারের আগে, রোগীদের খাওয়ার অভ্যাস এবং তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থার বিষয়ে যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং এই অবস্থায় নিয়মিত ওষুধ সেবন করার সম্পর্কে তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। রোগীদেরকে বিভিন্ন খাবার গ্রহণ করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয় কারণ শারীরিক সমস্যা চলাকালীন সব ধরনের খাবার গ্রহণ করা উচিত নয়। সার্জারি করার পরে, রোগীকে প্রায় আট থেকে দশ দিন হাসপাতালের মধ্যে থাকতে হবে। এইসময়, চিকিৎসকরা রোগীর স্বাস্থ্যের অবস্থা সাবধানতার সাথে পর্যবেক্ষণ করেন। সমস্ত ক্যান্সার কোষ অপসারণ করা হয়েছে কিনা এবং লিম্ফ নোডগুলির কিছু অবশিষ্ট আছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য চিকিৎসকরা একাধিক পরীক্ষা করে থাকেন। হুইপল সার্জারির পরে, সবচেয়ে সাধারণ যে জটিল সমস্যাটি প্রায়শই লক্ষ্য করা যায় তা হল পাচক নিবারন করতে বিলম্ব হওয়া। জটিল বা দীর্ঘস্থায়ী অবস্থার ক্ষেত্রে রোগীকে একটি ফিডিং টিউব দিয়ে খাওয়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। হুইপল সার্জারির সবচেয়ে মারাত্মক জটিলতা হল পেটের সংক্রমণ যা লিকেজের কারণে সৃষ্টি হয় এবং যেখানে অগ্ন্যাশয়টি ছোট্ট অন্ত্রের সাথে যুক্ত থাকে। এটি প্যানক্রিয়াটিক লিক বা প্যানক্রিয়াটিক ফিসচুলা হিসাবে উল্লেখ করা হয়।

হুইপল সার্জারি কিভাবে করা হয়?

হুইপল সার্জারি বিভিন্ন উপায়ে করা হয় যেমন:
  1. ওপেন সার্জারি, যেখানে অগ্ন্যাশয়ের উপরে কাজ করার জন্য সার্জনরা রোগীর পেটের উপর একটি ছোট ছেদ তৈরি করে।
  2. ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারি, যেখানে সার্জনরা রোগীর পেটে বেশ কয়েকটি ছোট ছোট ছেদ তৈরি করে এবং তারপরে একটি ক্যামেরার সাথে সংযুক্ত একটি যন্ত্র প্রবেশ করান যার ফলে অপারেশন রুমের মধ্যে থাকা ভিডিও মনিটরে পেটের চিত্র লক্ষ্য করা যায়।/span>
  3. রোবোটিক সার্জারি, একটি হল মিনিমালি ইনভেসিভ বা কম আক্রমণাত্মক অস্ত্রোপচার পদ্ধতি যেখানে অস্ত্রোপচারের সরঞ্জামগুলি একটি রোবট বা যান্ত্রিক ডিভাইসের সাথে সংযুক্ত থাকে। এটি অগ্ন্যাশয়ের যে অংশগুলিতে মানুষের হাত পৌঁছাতে অক্ষম সেখানে কাজ করার জন্য এই সার্জারি উপযুক্ত।

আপনার অবস্থা বা রোগের জন্য অনুসন্ধান করুন

এপিলেপসি বা মৃগীরোগ সংক্রান্ত কিছু জানার বিষয়

WhatsApp